রমজান মাসে করণীয় ও বর্জনীয় আমল

রমজান মাসে করণীয় আমলসমূহ

রমজান মাসে করণীয় ও বর্জনীয় আমল
রমজান মাসএলেই আমাদের জীবনে যেন এক আলাদা আবহ তৈরি হয়। মসজিদে কোরআন তিলাওয়াতের ধ্বনি,সাহরির নীরবতা, ইফতারে আনন্দ সব মিলিয়ে রমজান শুধু একটি মাস নয়, বরং জীবনকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ। অনেকে রমজানকে শুধু খাওয়া দাওয়া বন্ধ রাখার মাস হিসেবে দেখেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রমজান হলো 
চরিত্র সংশোধন, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আল্লাহর আরও কাছে ফিরে যাওয়ার প্রশিক্ষণ।এই আর্টিকেলে আমরা জানব,
  • রমজান মাসে কী কী আমল করা উচিত
  • কোন কাজগুলো থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে
  • রোজা রেখে আমরা কোথায় বেশি ভুল করি
  • বাস্তব জীবনে কীভাবে সুন্দরভাবে রমজান কাটানো যায়


রমজান মাসে করণীয় ও বর্জনীয় আমল

রমজান মাস আমাদের জীবনে আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ উপহার হিসেবে। এটি শুধু না খেয়ে থাকার সময় নয়; বরং নিজেকে সংযত করা, চরিত্র সংশোধন করা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার এক সুবর্ণ সুযোগ। এই মাসে কিছু আমল এমন আছে, যেগুলো আমাদের রোজাকে অর্থবহ করে তোলে এবং ঈমানকে আরও মজবুত করে।
রমজান মাসে করণীয় ও বর্জনীয় আমল
নিচে রমজান মাসে করণীয় গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা হলো।

খাঁটি নিয়তে রোজা রাখা

রমজানের প্রতিটি রোজা শুরু হয় নিয়ত দিয়ে। নিয়ত মানে মুখে উচ্চারণ নয়, বরং অন্তরের দৃঢ় সিদ্ধান্ত।আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আজ আমি রোজা রাখছি।গরমে, কাজের চাপের মাঝেও কেউ যদি ধৈর্য ধরে রোজা রাখে—সে আসলে নিজের নফসকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করা

রমজানে নামাজের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। রোজা ও নামাজ একে অপরের পরিপূরক। অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময় মত আদায় করার জন্য আমাদের জন্য করণীয় হলো,
  • ফজরের নামাজ জামাতে আদায়ের চেষ্টা
  • কর্মব্যস্ততার মাঝেও যোহর ও আসর ঠিক সময়ে পড়া
  • মাগরিবে ইফতারের পর নামাজে মনোযোগ
  • এশার সঙ্গে তারাবিহ
  • নামাজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা ও আত্মসংযম তৈরি করে।

 কুরআন তিলাওয়াত ও অনুধাবন

রমজান হলো কুরআনের মাস। এই মাসেই নাজিল হয়েছে পবিত্র কুরআন মাজিদ। এইজন্য প্রত্যেক রোজাদার ভাই ও বোনদের জন্য করনীয় বিষয়টি হল,
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ তিলাওয়াত
  • অর্থ বোঝার চেষ্টা
  • জীবনে বাস্তবায়নের সংকল্প
  • প্রতিদিন ২০–২৫ মিনিট দিলে পুরো মাসে একবার কুরআন খতম করা সম্ভব।

তারাবিহ নামাজ আদায় করা

তারাবিহ রমজানের বিশেষ ইবাদত। অর্থাৎ এ রমজান মাসে তারাবিহ নামাজ আদায় করার মাধ্যমে,
  • অন্তরকে প্রশান্ত করে
  • ঈমানকে সতেজ করে
  • কুরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে
  • যারা দাঁড়িয়ে পড়তে পারেন না, তারা বসেও পড়তে পারেন—নিয়তটাই আসল।

 বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা

রমজান দোয়া কবুলের মাস। বিশেষ করে,
  • সাহরির শেষ সময়
  • ইফতারের ঠিক আগমুহূর্ত
  • এই সময়গুলোতে নিজের জন্য, পরিবার ও উম্মাহর জন্য দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
👉 ছোট দোয়া হলেও মন থেকে চাইলে আল্লাহ কবুল করেন।

দান-সদকা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি

রমজান আমাদের শেখায় অন্যের কষ্ট অনুভব করতে। আর এই জন্য আমাদের করণীয় বিষয়টি হল,
  • যাকাত ও ফিতরা আদায়
  • গোপনে সদকা
  • রোজাদারকে ইফতার করানো
👉 নিজে কম খেয়ে হলেও কাউকে খাওয়ানো—এটাই রমজানের শিক্ষা।

চরিত্র ও আচরণ সংশোধনের চেষ্টা

রমজান হলো নিজেকে বদলানোর মাস। আর এই রমজান মাসে আমাদের জন্য করণীয় দিকগুলো হলো,
  • রাগ নিয়ন্ত্রণ
  • মিথ্যা ও গিবত থেকে দূরে থাকা
  • নম্র ভাষায় কথা বলা
👉 প্রকৃত রোজা তখনই পূর্ণ হয়, যখন আমাদের আচরণ সুন্দর হয়।

লাইলাতুল কদরের প্রস্তুতি

রমজানের শেষ দশ দিন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।এই সময়ে আমাদের করণীয়,
  • বেশি ইবাদত
  • গভীর তাওবা
  • রাত জেগে নামাজ ও দোয়া
👉 লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম—এই সুযোগ অবহেলা করা উচিত নয়।

সময়ের সঠিক ব্যবহার

রমজান সীমিত সময়ের মাস। আর আমাদের জন্য করনীয় দিকগুলো হলো,
  • অপ্রয়োজনীয় কাজ কমানো
  • মোবাইল ও বিনোদনে সংযম
  • ইবাদত ও আত্মচিন্তায় সময় দেওয়া
👉 সময়ই রমজানের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

রমজান মাসে বর্জনীয় কাজ

রমজান মাস কেবল উপবাসের সময় নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, চরিত্র সংশোধন ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক সুবর্ণ সুযোগ। এই মাসে কিছু কাজ শুধু নিষিদ্ধই নয়, বরং আমাদের রোজার মূল উদ্দেশ্যকেই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই রমজানে কী কী কাজ অবশ্যই বর্জনীয়, তা জানা ও মানা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।নিচে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করলাম, যাতে করে একজন রোজাদার রমজান মাসে বর্জনীয় কাজগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকে। 

 মিথ্যা বলা ও অসত্য আচরণ

রমজানে মিথ্যা বলা শুধু একটি গুনাহ নয়,এটি রোজার নৈতিক ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। রোজা রেখে যদি কেউ মিথ্যা কথা বলে, প্রতারণা করে বা অসত্য সাক্ষ্য দেয়, তবে তার উপবাস শুধু না খেয়ে থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে বাস্তবতার ক্ষেত্রে অফিসে বা ব্যবসায় ছোট মিথ্যা বলে আমরা অনেক সময় এটাকে তেমন গুরুত্ব দিই না। কিন্তু রমজানে এই ছোট মিথ্যাগুলোও বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

গিবত, পরনিন্দা ও কটু কথা বলা

অন্যের অনুপস্থিতিতে তার দোষ আলোচনা করা এটি গিবত। অনেক সময় আমরা এটাকে “সাধারণ কথা” মনে করি, অথচ এটি মারাত্মক গুনাহ।রমজানে, কারও সমালোচনা, অপমানজনক কথা, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ এসব থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকতে হবে।

 রাগ, ঝগড়া ও ধৈর্যহীন আচরণ

রমজান আমাদের ধৈর্য শেখানোর মাস। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়—
  • সামান্য কথায় রেগে যাওয়া
  • পরিবার বা সহকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়া
  • গালাগালি
  • এসব আচরণ রোজার শিক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত।
👉কেউ যদি ঝগড়া করতে চায়, শান্তভাবে বলা উচিত, আমি রোজাদার।

অশ্লীলতা ও হারাম দৃষ্টির ব্যবহার

রোজা শুধু মুখের নয় চোখ, কান ও মনকেও সংযত রাখতে হয়।রমজানে বর্জনীয়,
  • অশ্লীল ভিডিও বা ছবি দেখা
  • খারাপ গল্প বা গান শোনা
  • অনৈতিক চিন্তায় ডুবে থাকা
এগুলো অন্তরের পবিত্রতা নষ্ট করে দেয়।

নামাজে অলসতা ও অবহেলা

অনেকে রোজা রাখেন, কিন্তু
  • ফজরের নামাজ বাদ দেন
  • তারাবিহকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন
  • এটি মারাত্মক ভুল ধারণা।
নামাজ ছাড়া রোজার পূর্ণতা আসে না। রমজানে নামাজে অবহেলা করা মানে ইবাদতের মূল স্তম্ভে ফাটল ধরানো।

অপচয় ও অতিরিক্ত ভোজন

রমজান সংযমের মাস, অথচ ইফতারে দেখা যায়,
  • অপ্রয়োজনীয় খাবারের বাহার
  • খাবার নষ্ট হওয়া
  • এটি শুধু অপচয়ই নয়, বরং রমজানের শিক্ষা বিরোধী।
এক প্লেট খাবার ফেলে দেওয়ার বদলে যদি তা একজন অভাবীকে দেওয়া হয়, সেটাই রমজানের প্রকৃত শিক্ষা।

সময় নষ্ট করা ও অলস জীবনযাপন

রমজানে সময়ের মূল্য অনেক বেশি। অথচ,

  • সারাদিন ঘুমানো
  • ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল স্ক্রল করা
  • অপ্রয়োজনীয় বিনোদন
  • এসব আমাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়।
👉 মনে রাখতে হবে, রমজান বছরে একবার আসে—হারালে ফিরে পাওয়া যায় না।

 ইবাদতে প্রদর্শনমূলক মনোভাব

রমজানে ইবাদত করতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।কিন্তু,
  • লোক দেখানোর নামাজ
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় ইবাদত প্রদর্শন
  • এগুলো ইবাদতের সওয়াব নষ্ট করে দিতে পারে।

 দোয়া ও তাওবায় গাফিলতি

রমজান দোয়া কবুলের মাস। অথচ আমরা যদি,
  • নিজের ভুল স্বীকার না করি
  • ক্ষমা না চাই
তাহলে এই মাসের সবচেয়ে বড় সুযোগটাই হাতছাড়া হয়।

রমজানে সাধারণ ভুল ও তার কার্যকর সমাধান

রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। কিন্তু অজান্তেই আমরা এমন কিছু ভুল করি, যা রমজানের প্রকৃত বরকত থেকে আমাদের বঞ্চিত করে। অধিকাংশ ভুল আসে অজ্ঞতা, অভ্যাস ও অসচেতনতা থেকে।এই লেখায় থাকছে,রমজানে সবচেয়ে প্রচলিত ভুলগুলো এবং সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসার সহজ ও বাস্তব সমাধান। কাজেই সঠিক ও বাস্তবসম্মত তথ্যগুলো জানতে হলে নিচের দেওয়া সমস্ত তথ্যগুলো মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে।  তবেই আপনি জানতে পারবেন রমজানের সাধারণ ভুলগুলো কি কি এবং তার কার্যকর সমস্যা সমাধানের সঠিক তথ্য। 

রোজাকে শুধু ক্ষুধা–পিপাসার বিষয় মনে করা

কেন ভুল?

রোজা শুধু খাবার-পানীয় ত্যাগের নাম নয়, এটি চরিত্র ও তাকওয়া গঠনের মাধ্যম।নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,অনেক রোজাদার আছে, যাদের রোজা থেকে প্রাপ্তি শুধু ক্ষুধা ও পিপাসা।

সমাধান
  • চোখ, কান ও জিহ্বাকে গুনাহ থেকে বাঁচান
  • রাগ ও অহেতুক কথা নিয়ন্ত্রণ করুন
  • প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করুন—আজ আমি কী শিখলাম?

সাহরি বাদ দেওয়া বা অবহেলা করা

কেন ভুল?
সাহরি শুধু খাবার নয়—এতে বরকত রয়েছে।

 সমাধান
  • অল্প হলেও সাহরি করুন
  • খুব ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন
  • পানি ও সহজপাচ্য খাবার রাখুন
👉 সাহরি রোজার শক্তি ও ধৈর্য বাড়ায়।

রোজা রেখে নামাজে গাফিলতি

কেন ভুল?
রোজা ও নামাজ একে অপরের পরিপূরক। একটিকে রেখে অন্যটি পূর্ণতা পায় না।

সমাধান
  • অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিশ্চিত করুন
  • ফজর ও এশাকে অগ্রাধিকার দিন
  • অ্যালার্ম বা রিমাইন্ডার ব্যবহার করুন

ইফতারে অতিরিক্ত খাওয়া

কেন ভুল?
অতিরিক্ত খাওয়া অলসতা তৈরি করে এবং ইবাদতে বাধা দেয়।

সমাধান
  • সুন্নতি ইফতার দিয়ে শুরু করুন
  • ধীরে খান
  • ইফতারের পর হালকা হাঁটুন
👉 পরিমিত খাওয়াই সুস্থ রোজার চাবিকাঠি।

 গীবত, মিথ্যা ও ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়া

কেন ভুল?
এগুলো রোজার সওয়াব নষ্ট করে দেয়।

সমাধান
  • গীবত শুরু হলে স্থান বদলান
  • রাগ উঠলে চুপ থাকুন
  • আমি রোজাদার মনে করিয়ে দিন নিজেকে

 রমজানকে ঘুম আর অলসতায় কাটানো

কেন ভুল?
রমজান সময় নষ্ট করার মাস নয়; আত্মগঠনের মাস।

 সমাধান
  • দিনের একটি নির্দিষ্ট রুটিন বানান
  • অপ্রয়োজনীয় ঘুম কমান
  • ছোট কিন্তু নিয়মিত আমল রাখুন

কুরআনের সাথে সম্পর্ক দুর্বল রাখা

কেন ভুল?
রমজান হলো আল-কুরআন নাজিলের মাস।

সমাধান
  • প্রতিদিন অল্প হলেও কুরআন পড়ুন
  • অর্থ বোঝার চেষ্টা করুন
  • একটি আয়াত জীবনে প্রয়োগ করুন

 শেষ দশকে হঠাৎ ইবাদতে ঝাঁপিয়ে পড়া

কেন ভুল?
আমল ধারাবাহিক হলে তবেই তা গভীর হয়।

সমাধান
  • শুরু থেকেই আমলের অভ্যাস গড়ুন
  • শেষ দশকে পরিমাণ নয়, গভীরতা বাড়ান
  • বেশি বেশি ক্ষমা ও দোয়ায় মন দিন

দান–সদকাকে শুধু একদিনের কাজ ভাবা

কেন ভুল?
রমজানে দানের সওয়াব বহুগুণ বেড়ে যায়।

সমাধান
  • প্রতিদিন অল্প হলেও দান করুন
  • টাকা না পারলে খাবার বা সহায়তা দিন
  • গোপন দানে আগ্রহী হোন

 রমজান শেষে সব আমল ছেড়ে দেওয়া

কেন ভুল?
রমজানের সফলতা প্রমাণ হয় রমজানের পরে।

সমাধান
  • অন্তত একটি ভালো অভ্যাস ধরে রাখুন
  • নামাজ ও কুরআনের সাথে সম্পর্ক চালু রাখুন
  • মাস শেষে আত্মমূল্যায়ন করুন

রমজানকে কাজে লাগানোর কার্যকর কৌশল

রমজান শুধু একটি নির্দিষ্ট সময় না,এটি একটি পরিবর্তনের সুযোগ। এই এক মাস যদি ঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তাহলে এর প্রভাব থাকে পুরো বছরজুড়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেকেই রমজান শেষ করেন ঠিকই, অথচ নিজের ভেতরে তেমন কোনো পরিবর্তন অনুভব করেন না।এর কারণ একটাই—পরিকল্পনার অভাব।রমজানকে সত্যিকার অর্থে কাজে লাগাতে হলে আবেগ নয়, দরকার কার্যকর কৌশল। তাই আসুন আমরা সবাই রমজানকে কাজে লাগানোর কার্যকর কৌশল সম্পর্কে  জেনে নিই

রমজানের আগে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া

রমজান সফল হয় মূলত শুরু হওয়ার আগেই। অর্থাৎ,নিজেকে প্রশ্ন করুন
  • আমি এই রমজানে কী বদলাতে চাই?
  • কোন গুনাহটা ছাড়তে চাই?
  • কোন ভালো আমলটা অভ্যাসে পরিণত করতে চাই?
👉 একটি কাগজে ৩টি লক্ষ্য লিখে ফেলুন।

যেমন:
  •  নিয়মিত ফজরের নামাজ
  • দৈনিক কুরআন তিলাওয়াত
  • রাগ নিয়ন্ত্রণ
লক্ষ্য লিখে রাখলে অবচেতন মন সেটার দিকে কাজ করে।

রোজাকে শুধু উপবাস নয়, চরিত্র গঠনের মাধ্যম বানান

রোজা মানে শুধু না খাওয়া নয়—এটা আত্মসংযমের ট্রেনিং।নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, রোজা ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ রোজা থাকলে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং ঝগড়া না করে।

কৌশল:
  • রাগ উঠলে চুপ থাকুন
  • অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা এড়িয়ে চলুন
  • গীবত শুরু হলে স্থান বদলান
👉 রোজাকে ব্যবহার করুন নিজের দুর্বলতা চেনার আয়না হিসেবে।

সময়কে ইবাদতে ঢালার জন্য ‘টাইম ব্লক’ ব্যবহার করুন

রমজানে সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সময়। একটি সহজ টাইম ব্লক উদাহরণ:
  • ফজরের পর ৩০ মিনিট কুরআন
  • যোহরের আগে ১০ মিনিট ইস্তেগফার
  • আসরের পর দোয়া
  • ইফতারের আগে নীরবতা + আত্মসমালোচনা
  • এশার পর, তারাবি
👉 পুরো দিন বদলাতে হবে না—দিনের কিছু সময় ঠিক করলেই যথেষ্ট।

কুরআনকে শুধু পাঠ নয়, জীবনের গাইড বানান

রমজান হলো কুরআনের মাস। কারণ এই মাসেই আল-কুরআন নাজিল হয়েছে।

কার্যকর কৌশল,
  • প্রতিদিন অল্প পড়ুন, কিন্তু বুঝে পড়ুন
  • একটি আয়াত বেছে নিয়ে ভাবুন—এটা আমার জীবনে কীভাবে প্রযোজ্য?
👉 কুরআন তখনই কাজ করে, যখন তা চিন্তায় ঢোকে।

 লাইলাতুল কদরের প্রস্তুতি শেষ দশক থেকেই নয়, আগে থেকেই

অনেকে শেষ ১০ দিন এলেই সিরিয়াস হন—এটা বড় ভুল।

কৌশল,
  • শুরু থেকেই আমলের গতি বাড়ান
  • শেষ দশকে শুধু গতি নয়, গভীরতা আনুন
  • ইবাদতের পাশাপাশি বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করুন
👉 লাইলাতুল কদর হঠাৎ আসে না—এটি প্রস্তুতির ফল।

দান-সদকাকে অভ্যাসে পরিণত করুন

রমজানে দান করলে শুধু অন্যের উপকার হয় না—নিজের হৃদয় নরম হয়।

কার্যকর কৌশল,
  • প্রতিদিন অল্প হলেও দান করুন
  • টাকা না পারলে—খাবার, সময়, সহযোগিতা দিন
  • কাউকে না জানিয়ে দান করার চেষ্টা করুন
👉 গোপন দান ঈমানের গভীরতা বাড়ায়।

 অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমান, নীরবতা বাড়ান

রমজানের একটি নীরব শিক্ষা হলো—কম কথা, কম আওয়াজ, বেশি ভাবনা।

কৌশল,
  • সোশ্যাল মিডিয়ার নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন
  • সাহরি ও ইফতারের আগের সময় ফোন দূরে রাখুন
  • একা বসে নিজের জীবন নিয়ে ভাবুন
👉 নীরবতা আত্মার সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়।

রমজান শেষে কী করবেন—এটা রমজানেই ঠিক করুন

রমজানের সফলতা প্রমাণ হয় রমজানের পর।নিজেকে প্রশ্ন করুন,
  • কোন আমলটা আমি চালিয়ে যাব?

রমজান মাসে করণীয় ও বর্জনীয় আমল – FAQ

প্রশ্নঃ রমজানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল কোনটি?

উত্তরঃ রমজানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো রোজা রাখা। এর পাশাপাশি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও দান-সদকা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসে প্রতিটি ভালো কাজের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

প্রশ্নঃ রোজা রেখে কোন কাজগুলো করলে সওয়াব কমে যায়?

উত্তরঃ মিথ্যা বলা, গীবত করা, ঝগড়া করা, অশ্লীল কথা বলা—এসব কাজ রোজার মূল উদ্দেশ্য নষ্ট করে দেয়। যদিও এতে রোজা ভেঙে যায় না, তবে সওয়াব অনেক কমে যায়।

প্রশ্নঃ রমজানে কোরআন খতম করা কি জরুরি?

উত্তরঃ কোরআন খতম করা ফরজ নয়, তবে এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। চেষ্টা করা উচিত অন্তত একবার কোরআন খতম করার।

প্রশ্নঃ ইফতার দেরি করে করলে কি সমস্যা?

উত্তরঃ ইফতার দেরি করা সুন্নাহ বিরোধী। সময়মতো ইফতার করা উত্তম, কারণ এতে বরকত রয়েছে।

প্রশ্নঃ সাহরি না খেলে কি রোজা হবে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, সাহরি না খেলেও রোজা হবে। তবে সাহরি খাওয়া সুন্নাহ এবং এতে বরকত রয়েছে, তাই চেষ্টা করা উচিত সাহরি খাওয়ার।

প্রশ্নঃ রমজানে ঘুমিয়ে সময় কাটানো কি ঠিক?

উত্তরঃ অতিরিক্ত ঘুমিয়ে সময় কাটানো ঠিক নয়। এই মাস ইবাদতের জন্য, তাই যতটা সম্ভব সময় আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করা উচিত।

প্রশ্নঃ রমজানে কোন আমল করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়?

উত্তরঃ নামাজ (বিশেষ করে তারাবীহ), কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির, দান-সদকা—এসব আমল করলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ রোজা রেখে রাগ করলে কি রোজা নষ্ট হয়?

উত্তরঃ না, রাগ করলে রোজা নষ্ট হয় না। তবে এটি রোজার সৌন্দর্য নষ্ট করে এবং সওয়াব কমিয়ে দেয়।

প্রশ্নঃ রমজানে কী কী কাজ অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত?

উত্তরঃ মিথ্যা, গীবত, প্রতারণা, হারাম কাজ, সময় অপচয়—এসব অবশ্যই এড়িয়ে চলা উচিত।

প্রশ্নঃ রমজানে দান-সদকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?

উত্তরঃ রমজানে দান-সদকার সওয়াব অনেক বেশি। এটি গরিবদের সাহায্য করে এবং নিজের গুনাহ মাফের একটি মাধ্যম হয়।

লেখকের শেষ কথা

রমজান আমাদের জীবনের একটি ট্রেনিং মাস। এই মাসে আমরা যদি নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে পুরো বছর আমরা একটি সুন্দর, গুনাহমুক্ত জীবন যাপন করতে পারবো।তাই আসুন, এই রমজানকে শুধু একটি মাস হিসেবে নয়, বরং একটি জীবন পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি।
  • বেশি বেশি ইবাদত করি
  •  গুনাহ থেকে দূরে থাকি
  •  আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করি
  • কোন বদঅভ্যাসটা আর ফিরবে না?
👉 অন্তত একটি ভালো অভ্যাস রমজান-পরবর্তী জীবনে ধরে রাখতে পারলে—রমজান সফল।

                                                 Komol Besra

আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং–কেন্দ্রিক বাংলা ব্লগার ও SEO-বান্ধব কনটেন্ট রাইটার। আমার লেখা কনটেন্টগুলো মূলত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে এমন বাস্তবভিত্তিক তথ্য ও টিপসকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়। আমি বিভিন্ন ক্যাটাগরি অর্থাৎ,অনলাইন ইনকাম, ধর্মীয় কনটেন্ট, ক্যালেন্ডার, সরকারি তথ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও লাইফস্টাইলসহ নানা বিষয়ে সহজ ভাষায় নির্ভরযোগ্য ও তথ্যসমৃদ্ধ বাংলা কনটেন্ট লেখাই আমার মূল কাজ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Rajrafi.com এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url